শিরোনাম পড়ে আতঙ্কিত হলেন নাকি ! আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এই উক্তিটি করেছেন, রাস্তার পাশ থেকে চা বিক্রেতার নিকট থেকে, চা খেতে যাওয়া জনৈক একজন চায়ের ক্রেতা। হয়তো তিনি বলতে চাচ্ছিলেন, “লাশের চা পাতার চা খাওয়াচ্ছেন নাকি”। চায়ের স্বাদ তার কাছে ভালো লাগেনি। চা বিক্রেতাও দেখলাম ছেড়ে কথা বলার লোক নন “লাশের চায়ের দাম কত জানেন ? পাঁচ টাকা কাপ চা খাচ্ছেন, তাও আবার লাশের চা চান, লাশের চায়ের অনেক দাম। এই দেখেন এই চা পাতা দিয়ে চা বানাইছি”- বলেই একটি চায়ের প্যাকেট বের করে দেখালেন দোকানদার। দু’এক কথার মধ্যে ভালোই তর্ক হলো দু’জনের মধ্যে। উপভোগ্য ছিল।
চা খাওয়া নিয়ে আরো কত যে রঙ্গ দেখা যায় আমাদের চার পাশে, একটু চোখ বুলালে আপনিও দেখতে পাবেন। বর্তমান সময়ে আমাদের দিন শুরু হয় এককাপ চা দিয়ে। অথচ এই চা খাওয়ানোর অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য, একসময় আমাদের দেশে বিনে পয়সায় চা খাওয়ানো হতো। বড় বড় ডেকসিতে চা গরম করা হতো, যাকে পাওয়া যেত, তাকেই মগ অথবা বড় গ্লাস ভরে চা দেয়া হতো বিনে পয়সায়।
বাংলাদেশে প্রথম চট্টগ্রামে চা ব্যবসা শুরু করে ১৮৪০ সালে বৃটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি । বৃটিশরা বিনে পয়সায় সেই যে চা খাইয়ে, বাঙ্গালী জাতিকে চা খোর বানিয়ে গিয়েছিল, যা আজ অবধি চলছে এবং আশাকরি তা চলমান থাকবে।
অথচ আজ, ঘুম থেকে উঠেই এককাপ চা না হলে চলেইনা। আবার চায়ের কত বাহারি নাম। চা-কে প্রধানত পাঁচটি নামে ডাকা হয়ে থাকে। যেমনঃ সবুজ চা, কালো চা, উলং বা ওলোং চা, ইষ্টক চা এবং প্যারাগুয়ে চা। তাছাড়া হলুদ চা , পুয়ের চা, সাদা চা, সাত রং চা আরো কত বাহারি নামে ডাকা হয়ে থাকে।
কত বাহারি দাম! বাহারি দাম, সে আবার কি? এই যে রাস্তার পাশে (লাশের চা, জনৈক ব্যক্তির দেয়া নাম ) চায়ের দাম একরকম, হোটেলে চায়ের অন্যরকম দাম, ফাইভষ্টার হোটেলে একরকম দাম। আর বাড়ীর গিন্নি অথবা প্রিয় জনের হাতের বানানো চা তো অমূল্য।
বর্তমানে বাংলাদেশ চা উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে বিশ্বে অন্যতম। আমাদের উৎপাদিত চা , দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিশ্বে রপ্তানি হয়ে থাকে।
আবার আমাদের দেশে কিছু কিছু অসাধু ব্যক্তি ঘরে বসে , লতা-পাতা, বিভিন্ন গাছের শুকনো পাতা, কিছু ক্যামিক্যাল মিশিয়ে বাহারি মোড়কে গ্রীন টি, ব্ল্যাক টি নামে চালিয়ে দিচ্ছে। যা লাশের চায়ের চেয়েও জঘন্য। এসব চা থেকে সাবধান।
যদিও বৃটিশরা বিনে পয়সায় আমাদেরকে চায়ের অভ্যাস তৈরি করে দিয়ে গেছে , তবে চায়ের পরিমিত অভ্যাস, শরীরের জন্য উপকারীই বটে। তাই তো বন্ধুর সাথে দেখা, একটু আড্ডা, চা ছাড়া কি আর চলে!
সর্বশেষ , চা নিয়ে অল্প কথায় লিখে কি আর মন ভরে, হয়তো আপনাকেই আবার এককাপ চায়ের তৃষ্ণা বাড়িয়ে দিয়েছি। চা সম্পর্কে আপনার কোন অভিজ্ঞতা, মজার ঘটনা থাকলে কমেন্ট বক্সে জানিয়ে দিন। আপনার নিকট থেকে না হয় আর একটু চা নিয়ে উপভোগ করি।
আরে !... আমারই তো আরেক কাপ চায়ের তৃষ্ণা পেয়ে গেল। গিন্নি এককাপ চা হবে........
Article Writer
------------------
Parvez Sabuz
Email: parvezsabuz@gmail.com
উপভোগ্য । ধণ্যবাদ
উত্তরমুছুন