“তেলে ভাজা রুটি ৫ টাকা, সাথে ডাল ফ্রি ! খাইলে খান , না খাইলে যান......”
এলাকার ফুটপাতে সুনীলের খাবার দোকান। সকালে তার দোকানের পাশ দিয়ে যাচ্ছি, বেশ চিৎকার শুনে এগিয়ে গেলাম। অনেক লোকের জটলা, কি হয়েছে বুঝার চেষ্টা করলাম। একজন লোক সুনীলের সাথে ঝগড়া করছে খাবার নিয়ে। তাকে রুটির সাথে আরেক বার কেন ডাল ফ্রি দিলো না সে জন্য।
সুনীলের সোজা সাফটা জবাব “ আর হবেনা, সব জিনিসের দাম বেশি.... খাইলে খান, না খাইলে যান.....।
সুনীলের দোকানে সকালে তেলে ভাজা আটার রুটি তৈরি করা হয়, প্রতিটি ৫ টাকা করে সাথে ডাল ফ্রি। তার ক্রেতা নিম্ন বিত্ত ও মধ্য বিত্ত শ্রেণির লোক। প্রতিদিন সকালে তার দোকানে ভিড় লেগেই থাকে। কেউ এখানে দাড়িয়ে নাস্তা করে নেয়, আবার অনেকে খাবার কিনে নিয়ে যায়।
সুনীল একজন সাদা সিধে মানুষ হিসেবেই দেখে আসছি । কারো সাত পাছে নেই। আপন মনে কাজ করে যায়। যে পরিমাণ খাবার, যে টাকায় বিক্রয় করে , তার যে লাভ খুব বেশী একটা হয়না, তা যে কেউ অনুমান করতে পারে। তবু দেখে আসছি বছরের পর বছর একই ভাবে তার ব্যবসা করে যাচ্ছে। তার নিজের কোন পরিবর্তন নেই, সেই সাথে ব্যবসার।
বর্তমানে সব জিনিস পত্রে দাম বেড়ে যাওয়াতে , আজ মনে হচ্ছে সুনীলের মাথাটা ঠিক নেই। তাই ক্রেতার সাথে ঝগড়ায় জড়িয়ে গেল।
যে রুটি নিয়ে ক্রেতা সুনীলের সাথে এত ঝগড়া করলো। আসা যাক এই রুটি নিয়ে দু’টি কথায় ।
পৃথিবীর মানুষের প্রধান খাদ্য এই রুটি। আমাদের দেশে ও রুটি অনেক জনপ্রিয় খাদ্যের মধ্যে অন্যতম।
রুটির আদি কথা
-----------
আদি কালে বুনো গম যব ও গাছের শিকড় থেকে পাওয়া যেত যে রুটি, তা প্রায় ১১,৬০০ থেকে ১৪,৬০০ বছর আগের। প্রত্নতাত্ত্বিকদের গবেষনায় উঠে এসেছে জর্ডানের কালা মরুভুমিতে পাওয়া, এই হাজার বছরের আবাদকৃত গম থেকে রুটির পূর্বতম জ্ঞান।
“ওরা না রুটি খায়। বাবা, ওরা কি গরিব.......” আমাদের দেশে এক সময় মনে করা হতো গরীব মানুষ আটার রুটি খায়। আর ধনীদের খাবার ছিল ভাত।
আজ দেখা যায় তার ব্যাতিক্রম । এখন এই রুটি ধনী লোকদের প্রধান খাদ্য হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।
পৃথিবীতে রুটি যে কত প্রকার হয়ে থাকে, বলে শেষ করা যাবেনা। একেক দেশে একেক রকম রুটি তৈরি হয়ে থাকে। আমাদের দেশের কথাই বলা যাক। একটু ভালো মানের হোটেলে দেখা যায় “ঐ মালাই মারকে রুটি দাও” আবার ফুটপাত থেকে শুরু করে অভিজাত শ্রেণির বিভিন্ন প্রকার মুখরোচক রুটি তৈরি হয়ে থাকে। যার তুলনা হয়না।
শেষ কথা, রুটি নিয়ে এই অল্প কথায় কিছু বুঝানো সম্ভন নয়। দু’টি কথা লিখতে বসলাম ঐ সুনীলের জন্যই। যে ভাবে আটা, ময়দার দাম বেড়ে যাচ্ছে, জানিনা সুনীল তার “ফ্রি ডালে ৫ টাকায় বিক্রি রুটির” ব্যবসা আর কতদিন চালিয়ে যেতে পারবে।
রুটি নিয়ে আপনার কোন স্মরণীয় মতামত থাকলে, কমেন্ট করে জানিয়ে দিন। আমরা না হয় আর একটু উপভোগ করি।













কোন মন্তব্য নেই